এই ছোট্ট হ্যান্ডবুকটিতে আমরা আলোচনা করবো ডেটাবেস নিয়ে। এটি পড়ার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ধরনের ডেটা সম্পর্কে শিখবেন এবং জানতে পারবেন ডেটাবেস কী? এছাড়া একটি প্রজেক্টে কীভাবে ডেটাবেস ইন্টেগ্রেট (Integrate) করা যায় সে বিষয়-টি নিয়েও কথা বলবো। আর কীভাবে একটি ডেটাবেস সিস্টেমে ডেটা যুক্ত করতে হয়, রিমুভ করতে হয়, ডিলিট ও আপডেট করতে করতে হয়; এসব নিয়ে আলোচনা করা তো বাধ্যতামূলক। চলুন কথা না বাড়িয়ে, বেসিক ডেটা স্ট্রাকচার শেখা শুরু করি।
আমরা সকলেই প্রায় ফেসবুক ব্যবহার করি। আমার জীবনে আমি প্রথম ফেসবুক চালাই আব্বুর বাটন ফোনে। চালানো বলা চলে না, ভাইয়া চালাইতো আর আমি দেখতাম। সেই বাটন ফোনের ফেসবুকে আমি ভাঙ্গাচুরা কিছু টেক্সট আর নিম্ন মানের ছবু দেখা যেত। তাতে কী? সেটাই ছিল আমাদের কাছে অনেক কিছু। তখন ছোটো থাকায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার মতো সাহস বা ক্ষমতা কোনোটিই আমার ছিল না। তবে আমার বড় ভাই দুই-একটা স্ট্যাটাস দিয়ে ছিল। শখের বসে হাতেগোনা কয়েকটি ছবিও আপলোড করেছিলাম আমরা।
বাংলাদেশের প্রাচীন প্রথা অনুসারে, এস.এস.সি পরীক্ষার পর আমার বড় ভাই একটি আন্ড্রোয়েড ফোন হাতে পায়। সে যখন তার নতুন স্মার্ট ফোনে সেই পুরোনো আই.ডি -টি লগইন করে তখন আমি একটি বিস্ময়কর জিনিস দেখতে পেলাম। আমরা বাটন ফোন দিয়ে যেসব স্ট্যাটাস ও ছবি আপলোড দিয়ে ছিলাম, সেসব কিছুই দেখা যাচ্ছে। কীভাবে দেখা যাচ্ছে? সব কিছুই তো আপলোড দিয়ে ছিলাম বাটন ফোন দিয়ে, তাহলে কীভাবে স্মার্ট ফোনে দেখা যাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর হলো ডেটাবেস। আমার ভাই যখন বাটন ফোনে ফেসবুক চালাইছে, তখন ফেসবুক তার সকল অনলাইন অ্যাক্টিভিকে তাদের ডেটাবেসে সংরক্ষন করে রেখেছে। তাই সেটি কোনো নির্দিষ্ট ডিভাইসের উপর নির্ভর করে না। যে ডিভাইস থেকে ডেটা চাওয়া হবে, ডেটাবেস থেকে সেই ডিভাইসে ডেটা প্রেরণ করা হবে।
সাধারণ অর্থে, যেকোনো তথ্যই হলো ডেটা। এটা হতে পারে - আপনার নাম, বয়স, ঠিকানা কিংবা ইমেইল, পাসওয়ার্ড। আবার আপনার ফোনে যে প্রেয়সীর নম্বর সেভ করা আছে, সেই নম্বরটিও একটি ডেটা। আসলে আপনি যে দিকেই তাকাবেন, সে দিকেই ডেটা দেখতে পাবেন। আপনার টেবিলের উপর যে চারটি বই রাখা আছে সেটিও একটি ডেটা। এভাবে বললে বলে শেষ করা যাবে না। যাইহোক, ভাই সবশেষে এটুকু মনে রাখুন -
<aside> 💡
Data is information about anything.
</aside>
আপনি কি কখনো ফুলদানি দেখেছেন? ফুলদানিতে ফুল সাজিয়ে রাখা হয়। চাইলে একটি ফুল বেশি রাখা যায়, আবার চাইলে একটি ফুল সরিয়ে নেওয়াও যায়। ফুলদানি বাদে, অন্য কোনো পাত্রে এতো সহজে আপনি ফুল সাজাতে পারবেন না।
ঠিক ফুলদানির মতোই ডেটাবেসে ডেটা সাজিয়ে রাখা হয়। ডেটাবেজ কে অনেক সময় সংক্ষেপে ডি.বি(DB) বলা হয়। ইউটিউবে শুধু আমি ভিডিও আপলোড দেই, আর আপনি দেখেন। পৃথিবীতে এমন কোনো ঘটনা ঘটে না। ইউটিউবে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিডিও আপলোড দেয়, আর কোটি কোটি মানুষ দেখে। ইউটিউব কে সকলের ভিডিও, লাইক, কমেন্ট এসব কিছুই সংরক্ষণ করতে হয়। সকলের এ সকল ডেটাকে সুসংগঠিতভাবে ভাবে সংরক্ষণের জন্য ইউটিউব ডেটাবেস ব্যবহার করে।
একাডেমিক কায়দায় ডেটাবেসের সংজ্ঞা দিতে হলে বলতে হয়, ডেটাবেস হলো সুসংগঠিতভাবে ডেটা সংরক্ষণের বিশেষ জায়গা/স্থান।
বেশ কিছু জনপ্রিয় ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম রয়েছে -